Saturday, August 30, 2025
Google search engine
Homeঅপরাধসোনারগাঁয়ে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনুমোদন বিহীন ভবনে মোবাইল টাওয়ার নির্মাণ

সোনারগাঁয়ে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনুমোদন বিহীন ভবনে মোবাইল টাওয়ার নির্মাণ


নিজস্ব প্রতিনিধিঃ-
 নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যোর বাজার ইউপির আনন্দবাজারে ১১২ নং দামোদরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর পাশে উপজেলা প্রশাসন এবং রাজউক এর অনুমোদন বিহীন ভবনে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মোবাইল টাওয়ার নির্মাণের কাজ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

স্থানীয়রা অভিযোগে বলেন,অনুমোদন বিহীন তৃতীয় তলা ভবনটি বিদ্যালয়ের অতি কাছে হওয়ায়  কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের টাওয়ারের রেডিয়েশন ও বর্জ্যপাতের ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে।

এমনত অবস্থায় মোবাইল টাওয়ারটি স্কুলের পাশ থেকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে নিয়ে অন্যত্র স্থাপন করার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা ও সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিভাবক, ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয় এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর দিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

তবে অভিযোগ দায়েরের পরেও থেমে নেই ফারুক ভূঁইয়া অদৃশ্য শক্তির মাধ্যমে তিনি ভবনের উপর টাওয়ারটি স্থাপন করার পায়তারা করছেন। 

এবিষয়ে অত্র স্কুলের সভাপতি ইসমাইল হোসেন বলেন, কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের টাওয়ারের রেডিয়েশন ও বর্জ্যপাতের ঝুঁকির আশঙ্কায় ডিসি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। এর আগে স্কুলের পিছনে একটা টাওয়ার ছিলো যেটা অনেক যুদ্ধ করে অপসারণ করা হয়েছে এখন আবার স্কুলের পাসে আরেকটা টাওয়ার বসানোর পাঁয়তারা করছে, এই টাওয়ারের জন্য এলাকার সকল গাছের ফল নষ্ট হচ্ছে। তাছারা এই ভবনটির কোনো সরকারি অনুমদন নাই প্লানিং পাস নাই সয়েলটেস্ট এর কাগজ পত্র নাই, এমনকি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কথা অমান্য করে অদৃশ্য শক্তির ইসারায় ঝুকিপূর্ণ মোবাইল টাওয়ার বসানো হচ্ছে। আর এই টাওয়ারের জন্য যদি ক্ষতি হয় তাহলে এই ক্ষতির দায় ভার কে নিবে?

অপরদিকে ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবকরা বলেন,মোবাইল টাওয়ার অলরেডি এখানে এখানে একটি স্থাপন করা হয়েছে এতে করেই কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা টাওয়ারের রেডিয়েশন ও বর্জ্যপাতের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এরপরও যদি আরেকটি মোবাইল টাওয়ার তৈরি হয় তাহলে ছাত্র-ছাত্রীদের মস্তিষ্কে সমস্যা হতে পারে,যার কারণে বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রীদের মাথা ব্যথার সমস্যা হচ্ছে।  আর এই টাওয়ারের ফলে অত্র স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। অভিভাবকরা বলেন স্কুলের আশে পাশে মোবাইল টাওয়ার না হয়ে দুরে হলে আমাদের কোন আপত্তি থাকবে না। একটি টাওয়ারের শব্দেই ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস করতে অনেক সমস্যা হচ্ছে তার উপর যদি আরেকটি টাওয়ার তৈরি হয় তাহলে লেখা পড়া করা ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে দুষ্কর হয়ে যাবে। এ বিষয়ে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 

স্থানীয় এলাকাবাসী জাব্বার বলেন, মোবাইল টাওয়ারের কারণে আমাদের আশপাশের যেই গাছপালা আছে ওই গাছ পালায় কোন ফল ফ্রুট হচ্ছে না,যাও কয়েকটি গাছে ফল হচ্ছে তাও পোকায় ভরে যাচ্ছে যা খাওয়ার অযোগ্য। এছাড়াও আমরা যতটুক জানি তিনি উপজেলা প্রশাসন ও রাজউকের কোন অনুমতি নেয়নি ভবনটি তৈরি করতে। তাছাড়া ভবনটি তৈরি করার সময় তিনি পাইলিং করেননি। পাইলিং ছাড়া এই ভবনটি যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ সেটা আপনার এই জানেন। পাইলিং ছাড়া এই ভবনটিতে যদি মোবাইল টাওয়ার তৈরি করে যে কোন মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও জানান। মোবাইল টাওয়ারের কাজটি বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভবন মালিক ফারুক ভুইয়া জানান, আমি আমার ভবনে টাওয়ার দিব এতে কারো অনুমতির প্রয়োজন হবে কেনো? আমি চেয়ারম্যান থেকে অনুমতি নিয়েছি, ইঞ্জিনিয়ার এর অফিসের এক লোকের কাছ থেকেও অনুমতি নিয়েছে,তবে তিনি অনুমতির কোন কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পারেননি। 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা রহমান জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত-পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments