Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসোনারগাঁয়ে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জাপার প্রার্থীরা এগিয়ে

সোনারগাঁয়ে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জাপার প্রার্থীরা এগিয়ে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ– নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর,শম্ভুপুরা ও সাদিপুর ইউনিয়ন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা এগিয়ে আছে।

জানা যায়,সোনারগাঁও উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন ইতিপূর্বে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ লীগের মনোনীত ৪ জন নৌকার প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন বাকি ৪ টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এলাকাবাসীরা জানান,জামপুর ইউপিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আশরাফুল ভূঁইয়া মাকসুদ, শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ ও সাদিপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল হাশেম ব্যাপক ভাবে এগিয়ে আছেন। অপরদিকে নোয়াগাঁও ইউনিয়নে এগিয়ে আছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ইউসুফ দেওয়ান। 

ভোটার ও এলাকাবাসী জানান অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন ইতিমধ্যে জামপুর,শম্ভুপুরা,নোয়াগাঁও, সাদিপুর ইউনিয়নের নির্বাচন ঘিরে জাতীয় পার্টির আওয়ামী লীগের প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষ হয়েছে তাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।ভোটাররা জানান জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা সব দিক দিয়ে এগিয়ে আছেন। 

পরাজয় উপলব্ধি করতে পেরে আওয়ামীলীগের নৌকার প্রার্থী শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করবে বলে জানা গেছে।

অপরদিকে ভোটাররা চান সরাসরি কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে প্রতিটি কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক পুলিশ,র‍্যাব,বিজিবি ও আনসার সদস্য সার্বক্ষনিক যেন অবস্থান করেন।

এতে করে শান্তি শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় থাকবে। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়,জামপুর ইউনিয়নে লাঙ্গল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল ভূঁইয়া মাকসুদ নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী হুমায়ুন কবির থেকে অনেক এগিয়ে আছেন। পিছিয়ে আছেন নৌকার প্রার্থী তাই পরাজয় ভয় লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আশরাফুল মাকসুদের কর্মী সমর্থকদের উপর কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষ লাঙ্গলের প্রতি সহনশীল হয়ে পড়েছেন।

অপরদিকে শম্ভুপুরা ইউনিয়নে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী তিনবারের সফল চেয়ারম্যান এবার লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কারী আব্দুর রউফ বিপুল সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছেন। এগিয়ে যাওয়ার ভয়ে নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান মেম্বার নাসির উদ্দিন ও নাসির উদ্দিন কর্মী বাহিনী নিয়ে লাঙ্গল প্রতীকের উপর কয়েক দফা হামলা ভাঙচুর করেছেন। 

নাসিরের প্রতি এলাকাবাসীর আস্থা নেই কেননা নাসির বিভিন্ন সাধারণ মানুষের জমিজমা দখল ও নদী হতে বালু উত্তোলন করে গ্রামকে বিলীন করে দেওয়ার সকল প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। এছাড়াও যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামি। এলাকাবাসী মনে করেন পূর্ব রেকর্ড নাসিরের ভালো নেই তাকে নির্বাচিত করা হলে যেকোনো সময় তাদের জমিজমা দখল ও নদী হতে বালু উত্তোলন করে গ্রামকে বিলীন করে দিবেন তাই তাদের সফল চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তাদের প্রথম পছন্দ এবং নির্বাচনের দিন লাঙ্গল প্রতীকে সিল মেরে তাকে বিজয়ী করবেন। এবং নাসির ঘোষণা দিয়েছেন যে কোন বিনিময় হোক তিনি নৌকার বিজয় নিশ্চিত করবেন এতে করে শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বাসী সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে ও সংঘর্ষের আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে সাদিপুর ইউনিয়নের লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করছেন আবুল হাশেম তার প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান বর্তমান চেয়ারম্যান আঃ রশিদ। এবার নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও তার প্রতি মানুষের আস্থা নেই কারণ ৪ বার তাকে নির্বাচিত করা হলেও তিনি তেমন উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারেননি রাস্তাঘাট, কালবাট পয়ঃনিষ্কাশন জন্য ড্রেন নির্মাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন ফলে অধিকাংশ রাস্তাঘাট ভাঙ্গা অপরিপূর্ণ এতে করে সাধারন মানুষের চলাচলে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় প্রায় সময় যানবাহন উল্টে লোকজন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয় যার কারনে আঃ রশিদ এবার নৌকা প্রতীক নিলেও তার পরাজয় অনেকটা নিশ্চিত, লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আবুল হাশেম ইতিপূর্বে কয়েকবার নির্বাচন করেছিলেন একবারও বিজয় লাভ করতে পারেননি তাঁর অনুসারীদের ধারণা নির্বাচিত হলেও তাকে পরাজিত করা হয় তাই এবার সাধারণ মানুষ আবুল হাশেমের প্রতি সহানুভূতিশীল, নির্বাচন আবুল হাশেমের জয়ের ব্যাপারে তার অনুসারীরা ১০০% নিশ্চিত, প্রশাসনকে সর্বাত্মক অবাধ নির্বাচন গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে কেননা কেন্দ্র দখল করার চেষ্টা চালাবেন অনেকে।

নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউসুফ দেওয়ান এর জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।তিনি নৌকা প্রতিক না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস নিয়ে নির্বাচন করছেন।এখানে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল বাতেন।এলাকায় তার পরিচিতি তেমন নয়।তবে লড়াই হবে আনারস প্রতীকের ইউসুফ দেওয়ানের সাথে।জাতীয় পার্টি ও বিএনপির ভোট গুলো পাবেন ইউসুফ দেওয়ান। সুষ্ঠু ভোট হলে নৌকার পরাজয় নিশ্চিত। ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে নৌকার প্রার্থী দেওয়ায় লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীরা সুবিধা জনক অবস্থায় রয়েছে। 

এলাকাবাসী ও ভোটারদের দাবী যেন নিরাপদে আমরা ভোট দিতে পারি সেজন্য প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।কোন সন্ত্রাসী ও বহিরাগত যেন কেন্দ্রে এসে কোন রকম ঝামেলা করতে না পারে।

অপর দিকে সোনারগাঁও নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।প্রশাসনের তরফ থেকে নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে ভোটারদের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে বিভিন্ন সভা থেকে।নির্বাচন কমিশনার কবিতা খান বলেছিলেন ভোট কেন্দ্রের ব্যালট পেপারে হাত থাকবে না বলে হুশিয়ারী।সকালে ভোট কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পৌছে দেয়া হবে বলে ও জানান।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments